মহিলা ও ট্রান্সজেন্ডারদের পিরিওডের দিনগুলোতে ছুটি ঘোষণা করল ‘জোমাটো’

মহিলা ও ট্রান্সজেন্ডারদের পিরিওডের দিনগুলোতে ছুটি ঘোষণা করল ‘জোমাটো’

নিজস্ব প্রতিবেদন, মাসিকের সমস্যা রয়েছে সকল মহিলাদেরই। কর্মক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন বেশি সমস্যায় পড়তে হয় মহিলাদের। সকল কর্ম প্রতিষ্ঠানেই যে হাইজিন মেনে চলা হয় এমনটাও নয়, আবার কোথাও কোথাও শৌচালয়ের সমস্যাও রয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে বেশ অসুবিধায় পড়তে হয় মেয়েদের। এই সকল সমস্যার কথা মাথায় রেখেই মাসিকের প্রথম দুদিন ছুটি দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন অরুণাচল প্রদেশের লোকসভার সদস্য নিনো এরিং।

নিনো এরিং মেনস্ট্রুয়েশন বেনিফিট বিলে আবেদন করেছিলেন, মাসিকের প্রথম দুটি দিন যেন মহিলাদের কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি দেওয়া হয় এবং তার জন্য তাঁদের পারিশ্রমিক যাতে কাটা না হয় সেদিকেও তিনি খেয়াল রাখতে বলেছেন। বিভিন্ন চা বাগান, ইটভাটায় যে সকল মহিলা শ্রমিকরা কাজ করেন তাঁদের মাসিকের দিনে প্রচুর সমস্যা হয়। ফলে নানা জটিল স্ত্রীরোগে ভোগেন তাঁরা। মৃত্যও হত। এছাড়া বলা হয়েছিল, মেনস্ট্রুয়েশনের সময় কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের বিশ্রামের বন্দোবস্ত করতে হবে৷

যদিও এখনও পর্যন্ত দেশের খুব কম কর্মক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য এই ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। তবে এই কথা মাথায় রেখে এগিয়ে এল আবার জ্যোমাটো। মাসিকের দিনগুলিতে মহিলা কর্মীদের জন্য ছুটির কথা ঘোষণা করল জ্যোমাটো। শুধুমাত্র মহিলারাই নন, ১০ দিনের এই পিরিয়ড লিভের জন্য আবেদন করতে পারবেন ট্রান্সজেন্ডাররাও। প্রতি বছর ১০টা করে ছুটি বরাদ্দকরা হল। শনিবার এই ঘোষণা করে সংস্থার সিইও দীপেন্দর গোয়েল ইমেলে লেখেন, ‘পিরিয়ডের জন্য ছুটির দরখাস্ত নিয়ে কোনও রকম লজ্জা বা সংকোচ করবেন না’।

এখনও পর্যন্ত বিশ্বের কিছু সংস্থায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হল জ্যোমাটো। এরূপ পদক্ষেপে খুশি সকল কর্মচারীরা। বিশ্বের অন্যান্য সংস্থাও যাতে এগিয়ে আসে, আশা রাখেন গোয়েল। তবে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে মানে, এর অপব্যবহার কেউ করবে, এরম মনোভাব রাখতে বারণ করলেন। জমা কাজ সারতে এই ছুটি নেবেন না। নিজের শরীরের খেয়ার রাখবেন। শারীরীক এবং মানসিক এই দুটিরই প্রতিফলন পরে আপনার কাজেই।

পাশাপাশি তিনি সংস্থায় কর্মরত পুরুষদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘আমাদের মহিলা সহকর্মীরা যদি মাসিক সংক্রান্ত সমস্যর কারণে ছুটির আবেদন করেন তা নিয়ে আমরা যেন কখনই অস্বস্তিকর প্রশ্ন না তুলি। পিরিয়ডস প্রত্যেক মহিলার জীবনের একটি অংশ। ওই সময় কতটা কষ্টের মধ্যে দিতে তাঁরা যান তা কিন্তু আমরা কখনই বুঝতে পারব না। ওঁরা যদি মুখে বলেন বিশ্রামের প্রয়োজন তাহলে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করে তাঁর ছুটি মঞ্জুর করা উচিত। আমি জানি এই ঋতুস্রাব কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে। আমরা যদি জোমাটোতে লিঙ্গসাম্যের সংস্কৃতি বজায় রাখতে চাই তাহলে আমাদের সবাইকে এই নতুন নিয়ম সমর্থন করতেই হবে’।

Leave a Comment