ভ্যাকসিন নিয়ে শীতল যুদ্ধে আমেরিকা – রাশিয়া

আশির দশকে শীতল যুদ্ধে মেতে উঠেছিল তৎকালীন দুই মহাশক্তি আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথেই শেষ এই শীতল যুদ্ধের। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি আবার উসকে দিয়েছে এই শীতল যুদ্ধ, তবে এবারের গোপন অস্ত্র হলো করোনার ভ্যাকসিন।

করোনা যুদ্ধে ইতিমধ্যেই দিশেহারা আমেরিকা। আক্রান্ত এবং মৃত্যুর দিক দিয়ে এখনো অব্দি সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকাই। ট্রাম্প প্রশাসন যে আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি সামলাতে অক্ষম হয়েছেন তা সর্বজনবিদিত। লক্ষাধিক মৃত্যু এবং হাজার হাজার লোকের কর্মহীনতা হোয়াইট হাউসকে ইতিমধ্যেই বিপদে ফেলেছে এর মধ্যেই সামনে এগিয়ে আসছে ভোট। শেষ চেষ্টা করতে ট্রাম্প সরকার ঘোষণা করেছিল নভেম্বরের আগেই আসবে করোনার ভ্যাকসিন, কিন্তু ভোটের আগে দিয়ে তার ভ্যাকসিন কে এই হাতিয়ার বানানোর চেষ্টায় সে দেশের বৈজ্ঞানিকেরাই জল ঢেলে দিয়েছেন, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী এত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন আনা সম্ভব নয়।

কিন্তু সে দিক দিয়ে দেখতে গেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। প্রথম থেকেই পুতিন ঘোষণা করে আসছেন যে করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন বিশ্বের দরবারে রাশিয়াই প্রথম আনবে এবং সেমতো তারা নিয়ে এসেছে করোনারোধী স্পুটনিক ভি। যদিও তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল এখনো শুরু হয়নি এবং সেটি বুধবার থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে তবে দেশের অবস্থাকে নজর রেখে মস্কো সরকার সেটি ইতিমধ্যেই দেশে প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছেন। এই নিয়ে যদিও চিন্তায় রয়েছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, তাদের মতে নির্দিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগেই সর্বসাধারণের উপর তা প্রয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া রীতিমত বিপদজনক হতে পারে। রুশ বৈজ্ঞানিকেরা যদিও তাদের ভ্যাকসিন নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী কিন্তু বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের জন্য হু – মুখপাত্ররা আলোচনায় বসছে রাশিয়ার সাথে। হু এর মুখপাত্র তারিখ জাসারেভিক বলেন ” রুশ কর্তাদের সাথে প্রতিষেধকটির প্রিকোয়ালিফিকেশন নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হবে”।

এই মুহূর্তে সংক্রমনের দিক থেকে রাশিয়া আছে বিশ্বের মধ্যে চার নম্বরে, বর্তমানে তাদের সংক্রমণ সংখ্যা প্রায় ৯ লক্ষ। কিন্তু মৃতের নিরিখে বিশ্বের প্রথম দশটি দেশের মধ্যেও তারা আসেনা। করোনা সংক্রমনের প্রথমদিকে রাশিয়া আমেরিকাকে পিপিই কিট এবং এন ৯৫ মাস্ক দিয়ে সাহায্য করেছিল কিন্তু এত কিছুর পরেও ভ্যাকসিন নিয়ে আমেরিকা ও রাশিয়ার ঠান্ডা যুদ্ধের দ্বৈরথ থামানো যায়নি। ইতিমধ্যেই আমেরিকা বলে দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে প্রস্তুত নয় কারণ সেটি সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। সম্প্রতি বৃটেনের তরফ থেকেও দাবি করা হয় যে তারাও রাশিয়ার ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে চায় না।

তবে রাশিয়ার এই করোনা ভ্যাকসিনের ছাড়পত্র দেওয়াকে ইউরোপ এবং আমেরিকা যে ভালো চোখে দেখছে না তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিনকেই জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি, আর এই তাড়াহুড়োর জন্যই রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিনটিকে একটি রাজনৈতিক শীতল যুদ্ধের ফলাফল বলেই আখ্যা দিতে চান বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment