শার্লী এবদোর জেরে ফ্রান্সে হত্যা শিক্ষকের

ব্যঙ্গ চিত্রের ম্যাগাজিন শার্লী এবদো একটি মুসলিম সম্প্রদায়ভিত্তিক ব্যাঙ্গ চিত্রের জন্য ভয়াবহ জঙ্গী হামলার শিকার হয় ২০১৫ সালে। গত মাসেও এক পাকিস্তানি যুবক শার্লী এবদোর অফিসের সামনে ছুরি হামলা চালায়। কিন্তু এসবে দমে না থেকে তাদের ২০১৫র সেই বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্র তারা আবার তাদের ম্যাগাজিনে প্রকাশ করে, শার্লী এবদোর দাবি এই ছবি তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ঘোষণা করে। তাদের মতে এটি শুধুমাত্র একটি ব্যঙ্গচিত্রই নয়, এটি তাদের মত প্রকাশের একটি মাধ্যম মাত্র।

কিছুদিন আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কনফ্লাস সেন্ট অনরিন নামক এলাকার একটি স্কুলে এক শিক্ষক মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারে পড়াতে গিয়ে শার্লী এবদোর সেই ২০১৫ সালের ব্যঙ্গ চিত্রের কথা তুলে ধরেন। স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়াদের দাবি অনুযায়ী শার্লী এবদোর ব্যঙ্গচিত্র গুলির ছবি দেখানোর সময় তিনি ক্লাসের মুসলিম ছাত্র দের বাইরে চলে যেতে বলেন, তিনি বলেছিলেন যে তিনি তাদের ভাবাবেগে আঘাত দিতে চান না। যদিও এই নিয়ে বেশকিছু মুসলিম অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ জানায়। এই নিয়ে স্কুলের পরিবেশ বেশ অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর শুক্রবার এরনি-সুর-ওয়েজ নামক একটি এলাকা থেকে শিক্ষকটির গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৮ বছরের এক চেচেন ছাত্র সেই শিক্ষককে হত্যা করেন বলে অভিযোগ, যদিও ঘটনার অকুস্থলেই পুলিশের গুলিতে সেই ছাত্রেরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রের মাধ্যমে জানা গিয়েছে যে ছেলেটির হাতে নাকি ছুরি এবং প্লাষ্টিক গুলি ভরা বন্দুক ছিল, পুলিশ তাকে বারবার অস্ত্র ত্যাগ করতে বললেও ছেলেটি কর্ণপাত করেনি সেই কারণে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।

এখনো পর্যন্ত ছেলেটির পরিবারের মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন ” এটি ইসলামিক সন্ত্রাসের হামলা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে পড়াতে গিয়ে আমার দেশের এক তরতাজা শিক্ষককে ইসলামিক সন্ত্রাসের হাতে প্রাণ হারাতে হলো”। ফ্রান্স বরাবরই ইসলামিক কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা করে এসেছে এবং খুব শীঘ্রই ইসলামিক কট্টরপন্থীদের নিয়ে একটি বিল তারা আনতে চলেছে।

Leave a Comment