ছত্রিশগড়ে গণধর্ষণের পর আত্মঘাতী নাবালিকা, এফআইআর নিতে নারাজ পুলিশ

ছত্রিশগড়ে গণধর্ষণের পর আত্মঘাতী নাবালিকা, এফআইআর নিতে নারাজ পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদন, ফের ছত্রিশগড়ে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠে এল। ৭ লম্পটের লালসার শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সেই দলিত নাবালিকা। তারপর ২ মাস কেটে গিয়েছে, কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে FIR নেয়নি পুলিশ। শেষমেশ অসহায় নিগৃহীতার বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। শেষে চাপে পড়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

বাস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজের কথায়, “বহু দিন পর মেয়েটির এক বন্ধু মৃতার বাবা-মাকে ধর্ষণের ঘটনাটি জানায়। তাকেই এই কথা জানিয়েছিল নাবালিকা। সব শুনে মর্মাহত হয়ে পরিবার বুঝতে পারছিল না যে, যেহেতু মেয়েটি মারা গিয়েছে, তাই আর মামলা করা যায় কি না। আইন সম্পর্কে না-জানায় তারা পুলিশের কাছে যায়নি। ২ মাস পর মেয়েটির বাবাও কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে কোনওক্রমে রক্ষা করা হয়।”

জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক আগে ১৬-১৭ বছর বয়সি মেয়েটি পাশের গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিল। সেখানে দুজন মদ্যপ তাকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায়। পরে আরও পাঁচজন তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। গণধর্ষণের শিকার হয় তরুণী। এমনকী, বাড়িতে এ বিষয় জানালে মেয়েটিকে খুন করার হুমকিও দেয় তারা। ভয়ে মেয়েটি বাবা-মাকে না জানিয়েই বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে আসে। পরে এক বন্ধুকে সবটা জানায় সে। ২০ জুলাই ওই নাবালিকা আত্মহত্যা করে।

তবে পরিবার সূত্রে দাবি, স্থানীয় পুলিশ কর্মীদের কাছে গণধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। শেষ অবধি মেয়েটির বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা করায় পুলিশের টনক নড়ল।এই ঘটনায় শিশু অধিকার রক্ষার জাতীয় কমিশনের চেয়ারপার্সন যশবন্ত জৈন কোডেগাঁও এসপি কে চিঠি দিয়েছেন। অভিযোগ দায়ের না করায় স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি, ১০ দিনের মধ্যে গোটা তদন্তের রিপোর্ট জমা করতে বলেছেন তিনি।

Leave a Comment