বেইরুট বিস্ফোরণ, বিধ্বস্ত লেবানন

মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পর বিধ্বস্ত বেইরুট। অনেক রক্ত ক্ষয় সংগ্রাম দেখেছে শহরটি, অনেক বিস্ফোরণ এবং মৃতের সাক্ষী এই শহর কিন্তু ভয়াবহতার দিক থেকে এই বিস্ফোরণ সবাইকেই পার করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধ এর কাছে ছোট বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি এবং আর্থিক মন্দার কারণে আগে থেকেই ধুকছিল লেবানন কিন্তু এই বিস্ফোরণের পর লেবানন যেন পিছিয়ে গেল আরো ১০০ বছর। সরকারি তরফে মৃতের সংখ্যা ১৩৫, তবে এই সংখ্যা যে বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আহত প্রায় ৩০০০। বিস্ফোরণের কাছাকাছি জনবহুল এলাকাটি এখন বাড়ি ঘরের ধ্বংসস্তূপ এবং বিচ্ছিন্ন রক্তের দাগে ভরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যে ছটা নাগাদ বেইরুটের বন্দর সংলগ্ন এলাকাটি ভয়ানক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ২০০ কিলোমিটার দূরে সাইপ্রাস দ্বীপেও এর কম্পন অনুভূত হয়। বিস্ফোরণের জেরে রিখটার স্কেল এ ৪.৫ কম্পনের একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিস্ফোরণের অনলাইন ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে ভয়ংকর কিছু একটা ফাটতে ধোঁয়ায় ভরে গেছে চারিদিক এবং মুহূর্তে সেই ধোয়ার রং বদলে হয়ে গেছে কমলা, একটি মাশরুম সদৃশ মেঘ তৈরি হয়েছিল বিস্ফোরণের এলাকায়। বিস্ফোরণের পর কাঁপতে থাকে গোটা এলাকা এবং তারপর একের পর এক ভেঙে পড়ে বহুতল বাড়িগুলি। কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িও দুমড়েমুচড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার এক-পঞ্চমাংশ শক্তি এই বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়েছিল।

প্রথমে সন্ত্রাসবাদি হামলার কথা মনে হলেও পরে দেশের আভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মোহাম্মাদ ফাহমি জানান ওই এলাকার একটি গুদামে ২০১৪ সাল থেকে জমা ছিল প্রায় ২৭০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যা কিনা একটি বিস্ফোরক। কোন কারণে সেই গুদামঘরে আগুন লাগার থেকেই এই বিস্ফোরণটি ঘটে, এছাড়াও আশে পাশে কোথাও বাজি মজুত রাখা হয়েছিল, সেটিও এই বিস্ফোরণে অনুঘটকের কাজ করে।

আর্থিক মন্দায় বিপর্যস্ত লেবাননের উপর এ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণের ফলে খাদ্যশস্য মজুদ রাখার গুদামগুলিও নষ্ট হয়ে গেছে, গৃহহীন হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ। একেই করোনার ফলে হাসপাতালগুলো ভরে ছিল তারপরে কালকের বিস্ফোরণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় আরো কয়েক হাজার মানুষ ফলে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে। আর্থিক মন্দার সাথে যুক্ত হয়েছে চিকিৎসা এবং খাদ্য সামগ্রীর সংকটের চিন্তাও। অবশ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিবেশী দেশগুলির সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, আগামীকাল লেবানন সফরে যাবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরো ।

Leave a Comment