রথে চেপে গুন্ডিচা মন্দির

মায়ের বোন মাসি, তারে মোরা বড়ো ভালোবাসি। আসুন, আজ আমরা একটু জেনে নিই আমাদের প্রানের ঠাকুর শ্রী জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি নিয়ে। পূর্ব ভারতের ওড়িশা রাজ্যে অবস্থিত বিখ্যাত ধাম – পুরী শহরের উত্তর কোণে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির হলো ‘ গুন্ডিচা মন্দির ‘। এই গুন্ডিচা মন্দির জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি বা বাগানবাড়ি নামেই পরিচিত। একটি বিশালাকার বাগানের মাঝে চারপাশে পরিখাবেষ্ঠিত এই মন্দিরে নিয়মিত ভক্তের ঢল নেমেই থাকে। সঙ্গে অসম্ভব সুন্দর চোখ জোড়ানো প্রাকৃতিক  পরিবেশ। এই মন্দির জগন্নাথ দেবের শ্রীমন্দির থেকে মাত্র তিন কিমি দূরেই অবস্থিত। এই তিন কিমি রাজপথেই জগত বিখ্যাত রথযাত্রা হয়ে থাকে। এই পথেই জগন্নাথদেব তার ভাই বলরাম ও ভগিনী সুভদ্রার সাথে মাসির বাড়ির যাত্রা সম্পন্ন করেন।

গুণ্ডিচা” ছিলেন স্থানীয় দেবী, যিনি দেবী দূর্গার রূপ হিসাবে পরিগণিত হন এবং গুটিবসন্ত রোগ নিরামক৷ ওড়িয়া ভাষাতে “গুণ্ডি” শব্দটির অর্থ গুটিবসন্ত, যা বাংলা “গুটি” শব্দটি থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়৷ এবং বাংলার গুটিবসন্ত নিরাময়ের দেবী “গুটিকা ঠাকুরাণী” এবং ওড়িয়া “গুণ্ডিচা”কে একই ব্যক্তিত্ব বলে মনে করা হয়৷

শৈল্পিক গুনেও এই মন্দিরের নানা বৈশিষ্ট্য আছে। ধূসর বেলেপাথর দ্বারা নির্মিত মন্দিরটি কলিঙ্গ স্থাপত্য শৈলির অন্যতম নিদর্শন। এই মন্দিরের চারটি স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো ‘বিমান’, যাকে আমরা গর্ভগৃহ বলতে পারি। দ্বিতীয়টি হলো ‘জগমোহন’ যা লোকসমাবেশের স্থান। তৃতীয়টি হলো ‘নাটমন্ডপ’ অর্থাৎ যেখানে উৎসব হয় ও চতুর্থটি হলো ‘ভোগমন্ডপ’, যেখানে ভোগের আয়োজন হয়।

আষাঢ় মাসে রথর্যাত্রার সময় তিন দেবতা সাত দিনের জন্য মাসির বাড়িতে বিরাজ করেন। মন্দিরটির গর্ভগৃৃহের মঞ্চটি সমতল এবং তল থেকে ৪ ফুট উঁচুতে অবস্থিত৷ ১৯ ফুট দীর্ঘ ক্লোরাইড গ্রুপ ও ফাইলোসিলিকেট খনিজ নির্মিত রত্নবেদীর ওপর বার্ষিক অনুষ্ঠানের সময় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি স্থাপন করা হয়৷ মন্দিরটির দুটি ফটক রয়েছে৷ রথের সময় পশ্চিম প্রান্তের মূল দরজা দিয়ে দেবতাদের আগমন করা হয়। ও পূর্ব দিকের দরজা দিয়ে সাতদিন পর উল্টোরথের দিনে তাদের রথে চাপানোর ব্যাবস্থা করা হয়। আরও একজন মনকাড়া ছোট্ট গোপালকে মন্দিরের ভিতরে দোলনায় দুলতে দেখা যায়। সেই মূতি যেন সত্যি কোন শিশুর। জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান কার্যালয়ের তুলনামূলক ছোট সেবায়েত গোষ্ঠী সারাবছর এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। পুরী ধামে জগন্নাথ দর্শনে গেলে তাঁর পরমপ্রিয় মাসির বাড়ি যেতে কিন্তু ভুলবেন না।

Leave a Comment