বর্ণবিদ্বেষ বিক্ষোভে গুলি, নিহত ২, উত্তাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

গত রবিবার পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে জেকব ব্লেক এর পিঠে ৮ টি গুলি দাগে কেনেসা শহরের পুলিশ, এরপরই আবার নতুন করে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে উইসকনসিন সহ গোটা আমেরিকা। কেনেসার কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জেকব ব্লেক কোনো মিরাকেল ছাড়া আর কোনোদিন দাড়াতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তার পারিবারিক আইনজীবী বেন ক্র্যাম্প, এমনকি তার যা অবস্থা তাতে তিনি বাঁচবেন কিনা সেটাই এখনো সন্দেহজনক। এরমধ্যে গতকাল ব্লেকের উপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে গোটা আমেরিকা, কেনেসার রাস্তায় প্রতিবাদের ঢল নামলে প্রতিবাদী দের উপর পুলিশ গুলি চালায় এবং তাতেই দুজন প্রতিবাদী নিহত হন এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হিংসা সামলাতে কেনেসায় ফেডারেল বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস।

জেকোবের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার সহনাগরিকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য আর্জি জানানো হচ্ছিল, কিন্তু জেকবের বাবা এখনো আশ্চর্য এটা ভেবে যে পুলিশ কি করে পারল একটা নিরস্ত্র মানুষের পিঠে আটখানা গুলি চালিয়ে দিতে।

বর্ণবিদ্বেষের জন্য প্রাণহানি আমেরিকায় নতুন কিছু নয়, শিকাগোর একটি সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে এক সময় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমেরিকায় ঘটা বর্ণবিদ্বেষী মতভাবের জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। নিউইয়র্ক এর মতন বড় শহরে প্রতিদিন কোন না কোন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি অথবা মহিলা বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন।

গত মে মাসে মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামক এক কৃষ্ণাঙ্গ কে মাটিতে শুয়ে তার মাথা হাঁটু দিয়ে চেপে মেরে ফেলেছিল পুলিশ, এই হত্যার প্রতিবাদে করোনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গোটা আমেরিকায় মুখরিত হয়েছিল ” ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” স্লোগানটি। আর আজ আবার জেকবকে নিয়ে সেই একই পথে হাঁটছে আমেরিকা।

একাধিকবার কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েও যখন পুলিশ কেনেসা শহরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি তখন বাধ্য হয়েই স্থানীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ গুলি চালায় পুলিশ, আর তাতেই মৃত্যু হয় দুজনের এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উইসকনসিন প্রদেশের গভর্নর টনি এভার্স পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখরিত হলেও ইতিমধ্যেই গোটা শহর জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন তিনি।

Leave a Comment