করোনার দ্বিতীয় দফার সুনামির মুখোমুখি ভারত

করোনার দ্বিতীয় দফার সুনামির মুখোমুখি ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদন, করোনার প্রকোপ এখন কিছুটা কমলেও কমেনি আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্বে হঠাৎ যেন এক কালো ছায়া নেমে এসেছে। তছনছ করে দিয়েছে সমস্ত সাজানো জিনিস। এক-এক দিনে গড়ে যখন ৭০ হাজারের উপর লোক আক্রান্ত হচ্ছে, নতুন পজিটিভ কেস দিনে ৯১ হাজারও ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর বিনাশ তো করা খুবই জরুরি। আর তার জন্য কতটা ভারত তৈরি হচ্ছে? তাই ভাবার বিষয়।

করোনায় মৃত্যুহার এখনও ২ শতাংশের নীচে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। যেখানে দু-সপ্তাহে ১.৩৩ কোটি কোভিড নমুনার টেস্ট হয়েছে, রোজ প্রায় গড়ে ৭ থেকে ৮ লক্ষ কোভিড টেস্ট হচ্ছে। আপনাদের কাছে এখন পরিস্থিতি সাবলীল মনে হলেও বিশেষজ্ঞদের কাছে তা নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বিষয়টিকে এতটা হালকা ভাবে নিতে পারছেন না। তাঁদের বক্তব্য, ভারতে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় সুনামির মধ্যে আমরা ঢুকে পড়েছি। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে আমরা করোনা সংক্রমণের পিকে পৌঁছে যাব। যার পর সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমবে। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে আমরা করোনা সংক্রমণের পিকে পৌঁছে যাব। যার পর সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমবে। কিন্তু, কার্যক্ষেত্রে সেই পূর্বাভাস যে মিলবে না, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই তা অনুমান করতে পারছেন। যা পরিস্থিতি তাতে পুজোর আগে পরিস্থিতি আদৌ স্বাভাবিক হবে বলে মনে হয় না।

সামনে পুজো, বাঙালির প্রিয় পুজোতে এবারে যেন বাঙালির আনন্দ আর নেই। পুজোর আগে কতটা রোখা সম্ভব হবে এই সংক্রমণ, তাই ভাবার বিষয়। দেশে একদিনে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে। ব্রাজিলকে পিছনে ফেলে আমরা এখন দ্বিতীয় স্থানে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কেরালা ও ওডিশার মতো রাজ্যগুলিতে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ এই দ্বিতীয় সুনামি বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লিতে প্রায় দু-মাস পর নতুন করে রেকর্ড সংক্রমণ হয়েছে। উল্লিখিত অঞ্চলগুলিতে অস্বাভাবিক হারে সংক্রমণ বাড়ার কারণেই গোটা দেশে একদিনে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে।

ধীরে ধীরে সিনেমা হল, থিয়েটার, পাবলিক পার্ক খুলবে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে মানুষ। কিন্তু এতে সংক্রমণের আশঙ্কা বেশ বাড়বে। তাই সেটাও একটা দুশ্চিন্তার বিষয় তো বটেই।

Leave a Comment